স্পাইনাল শোয়ানোমা (Spinal Schwannoma)
স্পাইনাল শোয়ানোমা (Spinal schwannoma) হল এক ধরনের টিউমার যা মেরুদণ্ডের স্নায়ুর আবরণে (Schwann cells) তৈরি হয়। সাধারণত এটি (benign) বা নন-ক্যান্সারযুক্ত হয়ে থাকে, তবে বিরল ক্ষেত্রে এটি ম্যালিগন্যান্ট (cancerous) হতে পারে। এই টিউমারটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং এর আকার ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। এর চিকিৎসার প্রধান উপায় হলো সার্জারি বা অস্ত্রোপচার।


সার্জারির প্রয়োজনীয়তা:
যদিও সব স্পাইনাল শোয়ানোমার জন্য সার্জারির প্রয়োজন হয় না, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এটি জরুরি হতে পারে:
* লক্ষণ: যদি টিউমারটি স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা, অসাড়তা, পেশী দুর্বলতা, হাঁটাচলায় অসুবিধা, অথবা মূত্রথলি কার্যকারিতায় সমস্যা সৃষ্টি করে।
* আকার ও বৃদ্ধি: যদি টিউমারের আকার দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সম্ভাবনা থাকে।
* রোগীর অবস্থা: রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং টিউমারের অবস্থান বিবেচনা করে একজন নিউরোসার্জন সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন।


সার্জারির পদ্ধতি:
স্পাইনাল শোয়ানোমা সার্জারি সাধারণত একটি নিউরোসার্জিক্যাল সার্জারির একটি অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো স্নায়ুর ক্ষতি না করে টিউমারটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা। সার্জারির পদ্ধতি নির্ভর করে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং এটি মেরুদণ্ডের ঠিক কোন অংশে অবস্থিত তার উপর।
* মাইক্রোসার্জারি (Microsurgery): এটি সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। সার্জন একটি ছোট ইনসিশন (incision) বা কাটা তৈরি করে এবং একটি বিশেষ মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে টিউমারটি অপসারণ করেন। এর ফলে আশেপাশের স্নায়ু এবং টিস্যুর ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
* ল্যামিনেকটমি (Laminectomy) ল্যামিনেপ্লাস্টি(Laminoplasty) : টিউমারটি যদি মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যে থাকে, তাহলে হাড়ের কিছু অংশ (লামিনা) অপসারণ করা হয় যাতে টিউমারটি সহজে অপসারণ করা যায়।
সার্জারির ঝুঁকি এবং জটিলতা:
যেকোনো সার্জারির মতোই স্পাইনাল শোয়ানোমা সার্জারির কিছু ঝুঁকি এবং জটিলতা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
* স্নায়ুর ক্ষতি: সার্জারির সময় স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে, যা স্থায়ী দুর্বলতা বা অসাড়তা সৃষ্টি করতে পারে।
* রক্তপাত ও সংক্রমণ: সার্জারির স্থানে রক্তপাত বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
* মেরুদণ্ডের অস্থিতিশীলতা: কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতা কমে যেতে পারে, যার জন্য অতিরিক্ত সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
* টিউমারের পুনরাবৃত্তি: বিরল হলেও টিউমারটি পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকতে পারে।


আরোগ্য লাভ (Recovery):
সার্জারির পর আরোগ্য লাভের সময় টিউমারের আকার, সার্জারির ধরন এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে।
* হাসপাতালে থাকা: বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ৩ থেকে ৫ দিন থাকতে হয়।
* ব্যথা: সার্জারির পর ব্যথা অনুভব করা স্বাভাবিক। ব্যথার জন্য ব্যথানাশক ঔষধ দেওয়া হয়।
* শারীরিক কার্যকলাপ: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যকলাপে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসক strenuous activities বা ভারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন।
* ফলো-আপ: নিয়মিত ফলো-আপ ভিজিট এবং শারীরিক থেরাপি (physical therapy) আরোগ্য লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বেশিরভাগ রোগীই সার্জারির পর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। তবে বিরল ক্ষেত্রে যদি টিউমারটি খুব বড় হয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুর সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হতে পারে।