ডাঃ হাফিজ আসিফ রায়হান

নিউরোলজিক্যাল সার্জারিতে(Neurosurgery) নিউরোরেডিওলজির(Neuro Radiology) গুরুত্ব

নিউরোলজিক্যাল সার্জারিতে(Neurosurgery) নিউরোরেডিওলজির(Neuro Radiology) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
নিউরোলজিক্যাল সার্জারি বা স্নায়ু শল্যচিকিৎসায় নিউরোরেডিওলজি একটি অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ। এটি স্নায়ুতন্ত্রের রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা, অস্ত্রোপচার পরবর্তী ফলো-আপ ও রেডিও ও কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিউরোরেডিওলজি হল চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেই শাখা, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ইমেজিং পদ্ধতি যেমন –
এক্স-রে,
সিটি স্ক্যান,
এমআরআই,
পেট (PET) স্ক্যান ইত্যাদি ব্যবহার করে।



নিচের বিষয়গুলো নিউরোরেডিওলজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছে:
* রোগ নির্ণয় ও রোগের অবস্থান নির্ণয় (Diagnosis and Localization): নিউরোরেডিওলজির মাধ্যমে মেরুদন্ড ও মস্তিষ্কের টিউমার(Brain Tumor) , রক্তনালীর রোগ (যেমন – অ্যানিউরিজম(Aneurysm) , এভিএম(AVM), স্ট্রোক, ট্রমা, স্নায়ুসংক্রান্ত সংক্রমণ (যেমন মেনিনজাইটিস) এবং জন্মগত ত্রুটিগুলি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। নিউরোইমেজিংয়ের নিউরো রেডিওলজিস্ট (Neuro Radiologist) মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোন অংশে সমস্যা হয়েছে তা চিহ্নিত করতে পারেন। এর ফলে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা সহজ হয়।

* অস্ত্রোপচারের পূর্ব পরিকল্পনা (Pre-surgical Planning): নিউরোসার্জারির আগে নিউরোরেডিওলজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিটি, এমআরআই এবং অন্যান্য ইমেজিংয়ের মাধ্যমে সার্জনরা মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক (3D) চিত্র দেখতে পারেন। এই চিত্রগুলো টিউমারের আকার, অবস্থান, মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের (যেমন – কথা বলার বা চলাচলের কেন্দ্র) সাথে এর সম্পর্ক এবং রক্তনালীর অবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়। এতে করে সার্জনরা অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকরী উপায়টি বেছে নিতে পারেন।

* ইন্ট্রা-অপারেটিভ গাইডেন্স (Intra-operative Guidance): আধুনিক নিউরোসার্জারিতে ইন্ট্রা-অপারেটিভ ইমেজিং, যেমন – ইন্ট্রা-অপারেটিভ এমআরআই (iMRI), ইন্ট্রা-অপারেটিভ আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং ফ্লুরোস্কোপি খুবই উপকারী। এই প্রযুক্তিগুলো সার্জনকে অস্ত্রোপচারের সময় রিয়েল-টাইম গাইডেন্স প্রদান করে। এর ফলে সার্জনরা নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা সবটুকু টিউমার অপসারণ করেছেন এবং মস্তিষ্কের সুস্থ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

* অস্ত্রোপচার পরবর্তী মূল্যায়ন এবং ফলো-আপ (Post-surgical Evaluation and Follow-up): অস্ত্রোপচারের পরে নিউরোরেডিওলজি ব্যবহার করে ডাক্তাররা দেখতে পারেন যে অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে কিনা। অস্ত্রোপচারের পরে কোনো জটিলতা হয়েছে কিনা (যেমন – রক্তপাত, জলীয় অংশ জমা হওয়া), তা নির্ণয় করা যায়। দীর্ঘমেয়াদী ফলো-আপের ক্ষেত্রে, নিউরোরেডিওলজি ব্যবহার করে টিউমারের পুনরাবির্ভাব, স্নায়ুর পরিবর্তন বা চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়।

* রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা (Patient Management): নিউরোরেডিওলজিস্ট এবং নিউরোসার্জনদের যৌথ প্রচেষ্টায় রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী রেডিওলজিস্টরা ইমেজিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন, যা সার্জনকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যে অস্ত্রোপচারই একমাত্র উপায়, নাকি কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা অন্য কোনো চিকিৎসা ব্যবহার করা যায়।
সংক্ষেপে, নিউরোরেডিওলজি স্নায়ু শল্যচিকিৎসায় এমন এক আলোকবর্তিকা, যা রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পরবর্তী ফলো-আপ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপে পথ দেখায়। আধুনিক নিউরোসার্জারি নিউরোরেডিওলজির সহযোগিতা ছাড়া অসম্পূর্ণ। এই দুটি শাখার সমন্বয় নিউরোসার্জারিকে নিরাপদ এবং কার্যকর করে তুলেছে, যা রোগীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

Leave a Comment

Scroll to Top