ডাঃ হাফিজ আসিফ রায়হান

জিবিএম (Glioblastoma Multiforme - GBM)

GBM (Glioblastoma multiforme) হলো মস্তিষ্কের একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং দ্রুত বর্ধনশীল ক্যান্সার। এটি গ্রেড IV টিউমার হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, যা সবচেয়ে গুরুতর। GBM-এর চিকিৎসায় সার্জারি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এরপর সাধারণত রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।



GBM সার্জারির উদ্দেশ্য:
GBM সার্জারির প্রধান উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্কের সুস্থ স্বাভাবিক টিস্যুর ক্ষতি না করে যতটা সম্ভব টিউমার অপসারণ করা। এটিকে “maximal safe resection” বলা হয়। এর কারণ হলো:
* টিউমার এর পরিমান কমানো : সার্জারি টিউমারের মূল অংশ অপসারণ করে মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ কমাতে সাহায্য করে।
* চিকিৎসার কার্যকারিতা বৃদ্ধি: টিউমারের কেন্দ্রস্থলে থাকা কোষগুলি রেডিয়েশন এবং কেমোথেরাপির প্রতি প্রতিরোধী হতে পারে। সার্জারির মাধ্যমে এই কোষগুলি অপসারণ করলে পরবর্তী চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ে।
* জীবনকাল বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: কার্যকরভাবে টিউমার অপসারণ করলে কিছু রোগীর জীবনকাল দীর্ঘ হতে পারে এবং অবশিষ্ট জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে।



GBM সার্জারির কৌশল:
জিবিএম সার্জারি সাধারণত “ক্রানিওটমি” (craniotomy) এর মাধ্যমে করা হয়, যেখানে মস্তিষ্কে প্রবেশ করার জন্য খুলির একটি অংশ অপসারণ করা হয়।

সুবিধা:
* টিউমার অপসারণের মাধ্যমে মস্তিষ্কের চাপ কমে।
* পরবর্তী রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়ে।
* কিছু রোগীর জীবনকাল বৃদ্ধি পায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।



ঝুঁকি:
জিবিএম সার্জারি একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং এর সাথে কিছু ঝুঁকি জড়িত:
* স্নায়বিক ক্ষতি: মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের ক্ষতির ফলে স্মৃতিশক্তি, কথা বলা, নড়াচড়া বা অন্যান্য স্নায়বিক কার্যকারিতা প্রভাবিত হতে পারে।
* সংক্রমণ: সার্জারির স্থানে সংক্রমণ হতে পারে।
* রক্তপাত: মস্তিষ্কের ভেতরে বা বাইরে রক্তপাত হতে পারে।
* ফুলে যাওয়া (Edema): মস্তিষ্কে ফোলা দেখা দিতে পারে।
* খিঁচুনি: সার্জারির পর খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
* সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) প্রবাহে বাধা: টিউমার সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধা দিতে পারে, যার ফলে মস্তিষ্কে চাপ বাড়তে পারে (হাইড্রসেফালাস)। এক্ষেত্রে সাময়িক বা স্থায়ী শান্ট স্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।

GBM একটি আক্রমণাত্মক ক্যান্সার, তাই সম্পূর্ণরূপে টিউমার অপসারণ করা প্রায়শই সম্ভব হয় না কারণ এটি আশেপাশের সুস্থ মস্তিষ্কের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। সার্জারির পরও কিছু ক্যান্সার কোষ অবশিষ্ট থাকে। এজন্য সার্জারির পর রেডিয়েশন এবং কেমোথেরাপির মতো অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
জিবিএম-এর চিকিৎসার জন্য অভিজ্ঞ নিউরোসার্জন এবং একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল (নিউরো-অনকোলজিস্ট, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ইত্যাদি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment

Scroll to Top