ডাঃ হাফিজ আসিফ রায়হান

অপারেশন ছাড়াও ব্রেইন টিউমার( Brain Tumor) ভালো হয়

প্রোল্যাকটিনোমা(Prolactinoma):প্রোল্যাকটিনোমা হলো পিটুইটারি গ্রন্থির(Pituitary gland) একটি টিউমার, যা প্রোল্যাকটিন হরমোন তৈরি করে। প্রোল্যাকটিনোমা সাধারণত বিনাইন(Benign, ক্যানসার নয়) হয়ে থাকে।
পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি যা অনেক হরমোন তৈরি করে। প্রোল্যাকটিন হরমোন সাধারণত গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বুকের দুধ তৈরি করতে সাহায্য করে।



কারণ:
প্রোল্যাকটিনোমার সঠিক কারণ এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে কিছু বিষয় এর সাথে সম্পর্কিত, যেমন:
* পিটুইটারি গ্রন্থির কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
* জেনেটিক ত্রুটি (বিরল ক্ষেত্রে)
লক্ষণ:
প্রোল্যাকটিনোমার লক্ষণগুলি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ভিন্ন হতে পারে। নিচে কিছু লক্ষণ আলোচনা করা হলো:
নারী:
* মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
* বুকের দুধ আসা (যখন গর্ভবতী বা সন্তান জন্ম না দেওয়া অবস্থায়)
* যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া
* গর্ভধারণে সমস্যা
পুরুষ:
* যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া
* পুরুষত্বহীনতা
* বুকের আকার বড় হওয়া
* স্তনে দুধ আসা (বিরল)
নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে দেখা যায়:
* মাথাব্যথা
* দৃষ্টি সমস্যা
* বন্ধ্যাত্ব
* অস্টিওপোরোসিস

রোগ নির্ণয়:
প্রোল্যাকটিনোমা নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করা হয়, যেমন:
* রক্ত পরীক্ষা: রক্তে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা (Serum Prolactin) পরীক্ষা করা হয়।
* এমআরআই বা সিটি স্ক্যান: পিটুইটারি গ্রন্থির ছবি দেখে টিউমারের আকার ও অবস্থান জানা যায়।
* দৃষ্টি পরীক্ষা: টিউমার দৃষ্টিশক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে কিনা, তা দেখা হয়।

চিকিৎসা:
প্রোল্যাকটিনোমার চিকিৎসা সাধারণত তিনটি উপায়ে করা হয়:
* ঔষধ: প্রোল্যাকটিন উৎপাদন কমাতে এবং টিউমারের আকার ছোট করতে ঔষধ ব্যবহার করা হয়। ক্যাবারগোলিন(Cabergoline) এবং ব্রোমোক্রিপটিন হলো দুটি প্রধান ঔষধ।


* সার্জারি: যদি ঔষধ কাজ না করে বা টিউমার খুব বড় হয়, তাহলে সার্জারি করে টিউমার অপসারণ করা হয়।
* রেডিওথেরাপি: যদি ঔষধ এবং সার্জারি কাজ না করে, তাহলে রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয় টিউমার কোষ ধ্বংস করার জন্য।
প্রোল্যাকটিনোমা একটি জটিল রোগ। এর চিকিৎসায় সাধারণত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Scroll to Top