কাইফোপ্লাস্টি (Kypoplasty) সার্জারি
কাইফোপ্লাস্টি (Kypoplasty) সার্জারি হলো মেরুদণ্ডের কম্প্রেশন ফ্র্যাকচারের (vertebral compression fracture) চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি Minimally invasive পদ্ধতি। এই ধরনের ফ্র্যাকচারগুলি সাধারণত অস্টিওপরোসিস (হাড়ের দুর্বলতা), ক্যান্সার বা আঘাতের কারণে মেরুদণ্ডের হাড় দুর্বল হয়ে ভেঙে গেলে হয়ে থাকে।


কাইফোপ্লাস্টি সার্জারি কেন করা হয়?
কাইফোপ্লাস্টি সার্জারির মূল লক্ষ্য হল মেরুদণ্ডের ভাঙা হাড়কে স্থিতিশীল করা, ব্যথা কমানো এবং কখনও কখনও ভাঙা কশেরুকার (vertebra) উচ্চতা পুনরুদ্ধার করা।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এই সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে:
* দীর্ঘস্থায়ী পিঠে ব্যথা: যদি মেরুদণ্ডের ফ্র্যাকচারের কারণে তীব্র এবং ক্রমাগত পিঠে ব্যথা থাকে যা সাধারণ ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসায় কমছে না।
* উচ্চতা হ্রাস: মেরুদণ্ডের কম্প্রেশন ফ্র্যাকচারের ফলে উচ্চতা কমে গেলে।
* কাইফোসিস (Kyphosis): মেরুদণ্ডের ফ্র্যাকচার যদি পিঠের অস্বাভাবিক বাঁক (কুঁজ) সৃষ্টি করে।
* হাড়ের দুর্বলতা: অস্টিওপরোসিস বা ক্যান্সারের মতো রোগের কারণে হাড় দুর্বল হয়ে গেলে।


কাইফোপ্লাস্টি সার্জারির পদ্ধতি:
কাইফোপ্লাস্টি একটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত প্রক্রিয়া যা সাধারণত এক ঘন্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে। পদ্ধতিটি নিম্নরূপ:
* অ্যানেস্থেসিয়া: রোগীকে স্থানীয়(local) বা সাধারণ(Genetal) অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়।
* ছেদ: পিঠের একটি ছোট incision(কাটা) দেওয়া হয়।
* টিউব প্রবেশ করানো: একটি পাতলা টিউব (ক্যানুলা) সেই incision এর ভিতর দিয়ে মেরুদণ্ডের ভাঙা কশেরুকায় প্রবেশ করানো হয়। এক্স-রে (ফ্লুরোস্কোপি) ব্যবহার করে টিউবটিকে সঠিক অবস্থানে নেওয়া হয়।
* বেলুন স্থাপন: টিউবের মাধ্যমে একটি ছোট বেলুন প্রবেশ করানো হয় এবং ভাঙা কশেরুকার ভিতরে ফোলানো করা হয়। এটি ভাঙা কশেরুকাকে তার আসল উচ্চতায় ফিরিয়ে আনতে এবং একটি গহ্বর তৈরি করতে সাহায্য করে।
* বেলুন অপসারণ এবং সিমেন্ট ভর্তি: বেলুনটি অপসারণ করা হয় এবং তৈরি হওয়া গহ্বরে বিশেষ হাড়ের সিমেন্ট (bone cement) ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই সিমেন্ট দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং হাড়কে স্থিতিশীল করে।


কাইফোপ্লাস্টি সার্জারির উপকারিতা:
* দ্রুত ব্যথা উপশম: বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যথা কমে যায়।
* হাড়ের স্থিতিশীলতা: ভাঙা কশেরুকাকে স্থিতিশীল করে।
* উচ্চতা পুনরুদ্ধার: কিছু ক্ষেত্রে, কশেরুকার উচ্চতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
* গতিশীলতা বৃদ্ধি: ব্যথা কমার কারণে রোগীদের চলাফেরার ক্ষমতা উন্নত হয়।
* হাসপাতালে কম সময় থাকা: রোগীরা সাধারণত দ্রুত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
কাইফোপ্লাস্টি সার্জারির ঝুঁকি:
যদিও কাইফোপ্লাস্টি একটি নিরাপদ পদ্ধতি, তবে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
* অ্যানেশেসিয়ার প্রতিক্রিয়া।
* সংক্রমণ।
* রক্তপাত।
* সিমেন্ট লিক করা: ইনজেকশন দেওয়া সিমেন্ট ভুল জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে এবং কাছাকাছি স্নায়ু বা মেরুদণ্ডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ব্যথা বা স্নায়ুর ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কাইফোপ্লাস্টি সার্জারি পরবর্তী যত্ন:
সার্জারির পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি:
* বিশ্রাম: ডাক্তার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেবেন।
* ব্যথানাশক: ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডাক্তার নির্দেশিত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা।
* শারীরিক কার্যকলাপ: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যকলাপ শুরু করা। ভারী উত্তোলন বা হঠাৎ বাঁকানো এড়িয়ে চলা।
* ফলো-আপ: ডাক্তার নির্ধারিত ফলো-আপ ভিজিটগুলি মেনে চলা জরুরি।
* ফিজিওথেরাপি: কিছু ক্ষেত্রে, মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতে এবং নমনীয়তা বাড়ানোর জন্য ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
কাইফোপ্লাস্টি সার্জারি মেরুদণ্ডের কম্প্রেশন ফ্র্যাকচারের চিকিৎসায় একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে যখন প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যর্থ হয়।